জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় এবং জার্সি গাভী কত লিটার দুধ দেয় তার বিস্তারিত জানুন

প্রিয় পাঠক আপনারা হয়তো অনেকেই জানার চেষ্টা করছেন,জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় এবং জার্সি গাভী কত লিটার দুধ দেয় সেই সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য। কিন্তু কোথাও কোনো সঠিক তথ্য খুঁজে পাচ্ছেন না।আর তাই আমরা আপনাদের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানানোর চেষ্টা করব,জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় এবং জার্সি গাভী কত লিটার দুধ দেয় সেই সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য।
জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় এবং জার্সি গাভী কত লিটার দুধ দেয় তার বিস্তারিত জানুন

জার্সি জাতের গরু হলো দুধের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং দুধ উৎপাদনে বেশি গাভীদের মধ্যে একটি অন্যতম জাত। তবে এই জার্সি জাতের গরু পার্সেন্টেজ বা ক্রসের উপরে এর দুধের পরিমাণ নির্ভর করে। আর তাই আমরা আপনাদের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানাবো,জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় এবং জার্সি গাভী কত লিটার দুধ দেয় সহ জার্সি জাতের গরু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য।

ভূমিকা

প্রিয় পাঠক বৃন্দ আমরা আপনাদের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে জানানোর চেষ্টা করব, জার্সি গরুর উৎপত্তি স্থান , জার্সি জাতের গরু কেন পালন করবেন , জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় , ইন্ডিয়ান জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় , মিনি জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় , জার্সি গাভী কত লিটার দুধ দেয় এবং জার্সি গরু পালন করার সুবিধা ও অসুবিধা গুলো কি কি সহ জার্সি গরু সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য।
আর তাই আমরা আশা করব আপনারা ধৈর্য সহকারে এই পুরো আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ে দেখবেন এবং জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় এবং জার্সি গরু কত লিটার দুধ দেয় সহ জার্সি গরু সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য গুলো খুব ভালোভাবে জেনে নিবেন।

জার্সি গরুর উৎপত্তি স্থান

জার্সি গরু মূলত ইংলিশ চ্যানেলের জার্সি নামক ব্রিটিশ দ্বীপ থেকে নামকরণ হয়েছে। এই জাতটি বর্তমানে এতই প্রসিদ্ধ যে পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই এই জার্সি জাতের গরু পাওয়া যায়। আর এই জাতের গরুর অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও বেশ জনপ্রিয়। জার্সি গরু এত জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণ হলো এই জাতের গাভী গরুর দুধ। জার্সি গরুর সাইজ ছোট হলেও এদের দুধ হয় অনেক।

জার্সি জাতের গরু কেন পালন করবেন

আমার মনে হয় যারা কম খরচে অধিক লাভবান হতে চান তাদের অবশ্যই জার্সি জাতের গরু পালন করা উচিত। কারণ জার্সি গরু বিভিন্ন পরিবেশে অর্থাৎ ঠান্ডা এবং গরম উভয় আবহাওয়াতেই পালন করা যায় । এছাড়াও এরা সাইজে ছোট হয় এবং এদের খাওয়া-দাওয়া খরচ তুলনামূলক অন্যান্য যাতে গরু তুলনায় কম হয়ে থাকে। যা এই জাতের গরু পালন করার সবথেকে বড় সুবিধা হল এ জাতের গাভী থেকে ক লাক্টেশন পিরিয়ডে প্রায় ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার কেজি পর্যন্ত দুধ পাওয়া যায়।

যা থেকে একজন খামারি অথবা একজন প্রান্তিক খামারি অধিক লাভ করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও জার্সি জাতের গাভী পালন করার আরো একটি বড় সুবিধা হল এ জাতের গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে। যার ফলে খামারে গরুর রোগ বালাই কম হয় এবং খরচও অনেকটা কমে যায়। এ জাতের গাভী প্রায় প্রতি বছরই বাছুর দিয়ে থাকে। এটি আরও একটি প্রধান কারণ জার্সি জাতের গরু পালন করার।

জার্সি গরু চেনার সহজ উপায়

জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় গুলো হলো,এরা আকারে সাধারণত মাঝারি এবং ছোট হয়ে থাকে। এছাড়া এদের গায়ের রং অনেকটা বিস্কুট কালারের মত হয়ে থাকে। বিস্কুট কালার ছাড়াও হালকা কালচে ধূসর বা প্রায় কালো অথবা গারো বাদামির ও গাঢ় লাল রঙের হতে পারে। এবং কিছুটা শরীরে সাদা রংয়ের ছটা থাকতে পারে। এছাড়াও জার্সি জাতের গরুর মাথা এবং কান ছোট হয়। মাথায় কপালের কাছে অন্যান্য যাতে গরুর তুলনায় অনেকটা গর্তের মতো থাকে।

জার্সি গরুর নাক এবং ক্ষুর অবশ্যই কালো রং এর হবে। তাছাড়া একটি প্রাপ্তবয়স্ক জার্সি গাভীর গর্জন ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এবং একটি প্রাপ্তবয়স্ক জার্সি ষাঁড়ের ওজন ৫৪০ থেকে ৮২০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর জন্মের পর বাছুরের ওজন সাধারণত ২৫ থেকে ২৭ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটি জার্সি জাতের গাভী এক লাক্টেশন পিরিয়ডে প্রায় ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার কেজি পর্যন্ত দুধ দিতে পারে।

ইন্ডিয়ান জার্সি গরু চেনার সহজ উপায়

আমাদের দেশের মূলত দুই ধরনের জার্সি গরু দেখতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে অন্যতম হলো ইন্ডিয়ান জার্সি। ইন্ডিয়ান জার্সি মিনি জার্সির তুলনায় আকারে বড় হয় এবং দুধের পরিমাণও মিনি জার্সির তুলনায় কম হয়। ইন্ডিয়ার কোন একটি গরুর জাতের সাথে মিনি জার্সির জাতের ক্রসের সমন্বয়ে এই ইন্ডিয়ান জার্সির আবির্ভাব। এবং এদের কালার লাল , লালচে কালো , কালো বা কালো-সাদার সংমিশ্রণে হতে পারে।

মিনি জার্সি গরু চেনার সহজ উপায়

যেটাকে অরজিনালি জার্সি গরু বলে সেটি হলো মিনি জার্সি। মিনি জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় গুলো হলো,এরা আকারে সাধারণত মাঝারি এবং ছোট হয়ে থাকে। এছাড়া এদের গায়ের রং অনেকটা বিস্কুট কালারের মত হয়ে থাকে। বিস্কুট কালার ছাড়াও হালকা কালচে ধূসর বা প্রায় কালো অথবা গারো বাদামির ও গাঢ় লাল রঙের হতে পারে। এবং কিছুটা শরীরে সাদা রংয়ের ছটা থাকতে পারে। এছাড়াও জার্সি জাতের গরুর মাথা এবং কান ছোট হয়। মাথায় কপালের কাছে অন্যান্য যাতে গরুর তুলনায় অনেকটা গর্তের মতো থাকে।
এ জাতের গরুর পিঠ একদম সোজা হয়ে থাকে অর্থাৎ কোন চুঠ থাকে না এবং তাদের দেখতে অনেকটা কৌণিক মনে হয়। জার্সি গরুর নাক এবং ক্ষুর অবশ্যই কালো রং এর হবে। তাছাড়া একটি প্রাপ্তবয়স্ক জার্সি গাভীর গর্জন ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এবং একটি প্রাপ্তবয়স্ক জার্সি ষাঁড়ের ওজন ৫৪০ থেকে ৮২০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর জন্মের পর বাছুরের ওজন সাধারণত ২৫ থেকে ২৭ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। একটি জার্সি জাতের গাভী এক লাক্টেশন পিরিয়ডে প্রায় ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার কেজি পর্যন্ত দুধ দিতে পারে।

জার্সি গাভী কত লিটার দুধ দেয়

একটি জার্সি গাভী সাধারণত এক ল্যাক্টেশন পিরিয়ডে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার কেজি পর্যন্ত দুধ দিতে পারে যা জার্সি গরুর ওজনের চেয়ে প্রায় ১৩ গুণ বেশি। এবং আমাদের দেশে জার্সি গাভী দৈনিক প্রায় ১৫ থেকে ২৫ কেজি বা লিটার এর মতো দুধ উৎপাদন করতে সক্ষম। তবে এই দুধ উৎপাদনের পরিমাণ কম বেশি হতে পারে। আর দুধ উৎপাদনে পরিমাণ কম বেশি হওয়ার কারণ হলো এর খাবারের তারতম্য বা খাবারের মান ও পরিমনির উপর নির্ভর করে। তবে এদের যদি নিয়মিতভাবে সবুজ ঘাস এবং ভালো মানের দানাদার খাদ্য পরিমাণ মতো দেওয়া যায় তবে দুধের পরিমাণ আরো বেশি হয়।

জার্সি গরু পালন করার সুবিধা ও অসুবিধা গুলো কি কি

জার্সি গরু পালন করার সুবিধা গুলো অনেক । যেমন কম খরচ এবং কম পরিশ্রমে অধিক পরিমাণ দুধ পাওয়া যায় যা থেকে অধিক মুনাফা উপার্জন করা যায়। এছাড়াও জার্সি গরুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি। যার ফলে সঠিক পরিচর্যা করলে এ জাতের গরু কোন ধরনের রোগ বালাই হয়না। এতে করে ওষুধের খরচ বেঁচে যাই। জার্সি জাতের গাভী থেকে প্রায় প্রতি বছর একটি করে বাছুর পাওয়া যায়। এবং এদের দুধের ঘনত্ব বেশি হওয়ায় এদের দুধের স্বাদ মিষ্টি এবং গাড় হয়ে থাকে। যার ফলে অন্যান্য অধিক দুধ উৎপাদনকারী গাভীর দুধের তুলনায় জার্সি গাভীর দুধ বেশি দামে বিক্রয় করা যায়। আর তাই মুনাফা বেশি পাওয়া যায়।

জার্সি গরু পালনে অসুবিধা নেই বললেই চলে। অধিক দুধ উৎপাদন করার ফলে জার্সি গরুর একটি অসুবিধা প্রায়শই দেখা যায়। আর তা হল দুধ জ্বর। তবে দুধ জ্বর সম্পর্কে সঠিক ধারণা এবং সঠিক পরিচর্যা করলে এ রোগ হয় না বললেই চলে।

শেষ কথা

প্রিয় পাঠক বৃন্দ আমরা এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনাদের জানানোর চেষ্টা করেছি ,জার্সি গরুর উৎপত্তি স্থান , জার্সি জাতের গরু কেন পালন করবেন , জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় , ইন্ডিয়ান জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় , মিনি জার্সি গরু চেনার সহজ উপায় , জার্সি গাভী কত লিটার দুধ দেয় এবং জার্সি গরু পালন করার সুবিধা ও অসুবিধা গুলো কি কি সহ জার্সি গরু সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য।
আর তাই এ আর্টিকেলটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে বা কোন উপকারে এসে থাকে তবে অবশ্যই আপনারা আপনাদের বন্ধু-বান্ধবের সাথে এই আর্টিকেলটি শেয়ার করবেন এবং আমাদের এই ওয়েবসাইটটি নিয়মিত ফলো করবে।

ধন্যবাদ

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Club Solver এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url